প্রবাসী ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেই পাল্টে যায় রোমানার জীবন

ব্ল্যাকমেইল করে কামরুল হাসান (৪৫) নামে এক সৌদিপ্রবাসী ব্যবসায়ীকে বিয়ে করার পর থেকেই পাল্টে যেতে থাকে মডেল ও অভিনেত্রী রোমানা ইসলাম স্বর্ণার (৪১) জীবনযাপন। চলাফেরায় আসে চাকচিক্য। শুরু হয় বিলাসী জীবন। আর এসব হয় কামরুলের থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা দিয়ে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপরই বেরিয়ে আসতে থাকে রোমানার প্রতারণার গল্প। পুলিশ বলছে, রোমানা স্বর্ণা একাই নয়, এরা একটি প্রতারক চক্র। সম্মিলিতভাবে এই চক্র প্রতারণা করে আসছে।

ভুক্তভোগী কামরুল জানান, বিয়ের পর তার জীবনটা বিষিয়ে ওঠে। ১০ লাখ টাকা দেনমোহরের পাশাপাশি নেওয়া হয় ৩৩ ভরি স্বর্ণ। এরপর তার চাহিদা বাড়তেই থাকে। কেনেন চার লাখ টাকা মূল্যের একটি ঘড়ি, দুটি নতুন মডেলের আইফোনসহ বিভিন্ন পণ্য।

তিনি আরো জানান, ২০১৯ সালের মার্চে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর কামরুল সৌদি আরব চলে যান। সম্প্রতি তিনি দেশে আসেন। স্বর্ণাকে ফোন করলে রিসিভ করছিলেন না স্বর্ণা।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার স্বর্ণার বিরুদ্ধে কামরুল মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। সন্ধ্যায় লালমাটিয়া ডি-ব্লক-এর একটি বাসা থেকে স্বর্ণাকে গ্রেফতার করা হয়। স্বর্ণা ছাড়াও তার মা আশরাফুল ইসলাম শেইলি (৬০) ও ছেলে আন্নাফিকে (২০) গ্রেফতার করা হয় বলে বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর রশিদ।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে স্বর্ণার বাসায় যান তিনি। তখন সে বাসায় ফেরেনি। রাত ২টা ৪০ মিনিটে বাসায় ফিরলে স্বর্ণা জানিয়ে দেয়, তাকে অনেক আগেই সে তালাক দিয়েছে। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় তাকে। এর আগে রোমানার আরো দুটি বিয়ে হয়েছে বলে জানান কামরুল।

শুক্রবার মডেল স্বর্ণাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে। ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে মডেল স্বর্ণাকে একদিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।

মন্তব্য এর উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম