সরিষার হলুদ গালিচায় একদিন

সকাল ৭টা। কুয়াশার মধ্যে একটু একটু করে এগিয়ে চলছে বাস। প্রকৃতি কুয়াশাচ্ছন্ন শুভ্রতার চাদর দিয়ে বিছিয়ে রেখেছে গোটা এলাকা। যতদূর যাই ততই পুলকিত হই, শিহরিত হই।

শীতের শেষ আর বসন্তের ঠিক আগে অপরূপ সাজে সেজেছে গ্রামবাংলা। ঢাকার খুব কাছেই মানিকগঞ্জের গ্রামজুড়ে এখন হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। সরিষা ক্ষেতের মাঠে হলুদের হাতছানি। গাবতলী থেকে মানিকগঞ্জ শহর হয়ে ঝিটকা অভিমুখে গেলেই তরা সেতু।

ঠিক তরা সেতু থেকে খানিকটা যাওয়ার পরই আশপাশের গন্ধটা পরিবর্তন হয়ে গেল। আমরা উপলব্ধি করতে পারলাম এসে গেছি হলুদ রাজ্যে!

এখান থেকেই সরিষা ক্ষেত শুরু। যেদিকেই যাবেন সরিষা ক্ষেত আর সরিষা ক্ষেত! তবে খুব সকাল বেলা ঝিটকা বাজারে নামলে খেজুরের রস খাওয়া যাবে।

সরিষা ক্ষেতের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির আনাগোনা এবং মধু আহরণের দৃশ্য ঠিক যেন রোমান্টিক কবিতার বইয়ের মতো!

আর সেজন্যই বোধকরি কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য তার কবিতায় লিখেছেন, ‘মৌমাছি মৌমাছি/কোথা যাও নাচি নাচি/দাঁড়াও না একবার ভাই/ওই ফুল ফোটে বনে, যাই মধু আহরণে/দাঁড়াবার সময় তো নাই…।’

হেমন্ত ঋতুর অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকেই মৌমাছির ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। বসন্তের আগে আগে তা বেড়ে যায় বহুগুণ।

আর বাড়বেই না কেন, তখন তো সরিষা ফুল থেকে মধু আহরণের সময় একেবারে শেষের দিকে। তাই মৌসুমের ব্যস্ততাও বাড়িয়ে দেয় ওরা বহুগুণ।

চারিদিকের সরিষা ক্ষেতের বিশাল এক হলুদ সাগর। ফুরফুরে হলুদ সরিষা ফুলের ফাঁকে ফাঁকে আছে সবুজ পাতা ও ফল। এই ফল থেকেই পাওয়া যায় দৈনন্দিন ব্যবহার্য সরিষার তেল। আর তা উৎপাদন করেই কৃষকের মুখে ফুটে উঠে তৃপ্তির হাসি।

ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জের এই সরিষার হলুদ রাজ্যে যেতে চাইলে আসতে হবে গুলিস্তান। সেখান থেকে বিআরটিসি/শুভযাত্রা বাসে করে সরাসরি মানিকগঞ্জ আসা যাবে।

বিআরটিসিতে ভাড়া পড়বে ৯০ টাকা। শুভযাত্রায় ৮০ টাকা। এছাড়া গাবতলী থেকে যানজাবিল বাসসহ অনেক বাস ছাড়ে। সেখান থেকে ৪০-৫০ টাকা ভাড়া পড়বে জনপ্রতি। মানিকগঞ্জ থেকে ঝিটকার উদ্দেশে ২০ মিনিট পরপর সারাদিন বাস ছাড়ে। ভাড়া ৩০ টাকা।

মানিকগঞ্জে একদিনের ভ্রমণ হলেও যারা খুব রিলাক্স ভ্রমণ পছন্দ করেন তারা আগের দিন গিয়ে থাকতে পারেন। বাস যেখানে নামিয়ে দেবে সেখানেই নবিন সিনেমা হলের পাশেই রয়েছে থাকার হোটেল।

দুই সিটের প্রতি রুম ভাড়া ১৫০-২০০ টাকা। এছাড়াও টাউন হলের দিকে আরো কিছু হোটেল রয়েছে। ভোজন রসিকদের জন্য নামকরা কোন খাবারের দোকানের খোঁজ না পাওয়া গেলেও বাজারের সাধারণ হোটেলে ক্ষুধা নিবারণ করা যাবে।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জ ভ্রমণে গিয়ে একইসাথে দৃষ্টিনন্দন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখতে যাওয়া হবে বুদ্ধিমানের মতো একটি কাজ। আগের দিন গিয়ে থাকলে খুব রিলাক্সে দেখা যায়। তবে দিনে গিয়ে দিনেও দেখে আসা যায়।

এক্ষেত্রে একটু তাড়াহুড়া হয়ে যেতে পারে; তবে খুব সকালে গেলে দিনে গিয়ে দিনেই সরিষা ক্ষেত এবং বালিয়াটি জমিদার বাড়ি দেখে আসা যায়। এছাড়া খেজুরের রস খেতে হলে যেতে হবে খুব ভোরে।

ঝিটকা বাজার গিয়ে সেখান থেকে রিকশা নিয়ে শামিম হাজারির বাড়ির দিকে যেতে হবে। তবেই মিলবে খেজুরের রস। আর খেজুরের গুড় নিতে চাইলে একটু খোঁজখবর করে দেখে শুনে নিতে হবে।

মন্তব্য এর উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম