বিডি ওয়েল্ডিংয়ের পর্ষদ পুর্নগঠন, হবে বিশেষ নিরীক্ষা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডসের (বিডিওয়েল্ডিং) পর্ষদ পুর্নগঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এছাড়া বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোম্পানিটির ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরের আর্থিক অবস্থা নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) বিএসইসির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, বিডিওয়েল্ডিং ২০১৬ সালের ৪ মে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমেছে। এরপরে চার বছর সাত মাস তিনদিনেও কোম্পানিটির কোনো উন্নতি হয়নি। এক্ষেত্রে কোম্পানির পর্ষদ ব্যর্থ হয়েছে। এ জাতীয় কোম্পানির পর্ষদ পুর্নগঠনে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা জারি করে কমিশন।

‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি নিয়ে জারি করা বিএসইসির ওই নির্দেশনার ২-এ বলা হয়, এই ক্যাটাগরিতে পতিত হওয়ার ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানির পর্ষদ পুর্নগঠন করা হবে।

এই পুর্নগঠন বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডার পরিচালকেরা পরিচালক হওয়ার যোগ্য হবেন এবং কমিশন এক বা একাধিক স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেবে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটিতে দুইজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।

চিঠিতে কমিশন জানিয়েছে, ২০১৯ সালে কোনো মুনাফা ছাড়াই এক শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে বিডিওয়েল্ডিং।

যাতে সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন হয়েছে। এছাড়া স্থায়ী সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে নগদে আট লাখ ৭০ হাজার টাকা লেনদেন করে অনিয়ম করেছে।

এদিকে ব্যালেন্স সীটে ‘ল্যান্ড অ্যান্ড বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন হেল্ড ফর সেল’ দেখানো সত্ত্বেও ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে ৩৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা দেখিয়ে বিভ্রান্তকর তথ্য প্রকাশ করেছে বিডিওয়েল্ডিং।

এক্ষেত্রে যদি জমি ও ভবন বিক্রি না করে থাকে, তাহলে ক্যাপিটাল গেইনের মিথ্যা তথ্য বা বিক্রি করে থাকলে ব্যালেন্স সীটে জমি ও ভবন বাবদ সম্পদ দেখিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে বিডিওয়েল্ডিংয়ের স্থায়ী সম্পদ, মজুত পণ্য, দেনাদার, ডেফার্ড ট্যাক্স নিয়ে নিরীক্ষকের আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ওইসব সম্পদের বিষয়ে কোনো প্রমাণাদি সরবরাহ না করার বিষয়টিও জানানো হয়েছে। এতে করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আর্থিক হিসাবে সম্পদের অসত্য তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারে বলে মনে করছে কমিশন।

এছাড়া কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক হিসাব মান (আইএএস)-৩২ লঙ্ঘন করে প্রিলিমিনারি ব্যয়, আইপিও ব্যয়, আয়ের অবরাদ্দকৃত ব্যয়, সুদ ইত্যাদিকে বিলম্বিত ব্যয় (ডেফার্ড এক্সপেন্স) হিসেবে দেখিয়েছে।

আর কোম্পানিটিতে অদাবিকৃত ৩৩ লাখ টাকার লভ্যাংশ থাকলেও প্রদানের সক্ষমতা নেই বলে জানিয়েছে কমিশন।

এই কোম্পানিটিতে ৬৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার ধারন করছে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা।

এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়াকে বিনিয়োগকারীদের জন্য ক্ষতিকারক ও কমিশনের কাছে অপ্রত্যাশিত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব বিবেচনায় বিডিওয়েল্ডিংয়ের সর্বশেষ দুই অর্থবছরের আর্থিক হিসাবসহ (২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০) নিরীক্ষার জন্য কমিশন বিশেষ নিরীক্ষক নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যার ব্যয়ভার বহন করবে কোম্পানি। একইসঙ্গে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে নিরীক্ষকের চাহিদা অনুযায়ী সহযোগিতা করতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

অন্যদিকে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোম্পানির কোনো সম্পদ বিক্রি, বন্ধকী, হস্তান্তর বা নিষ্পত্তি করা যাবে না বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

মন্তব্য এর উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম