শিল্পপতি দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

47

রাজধানীর উত্তরার তিন নং সেক্টরের ৭/বি রোডের ৩১ নং বাসায় চৌদ্দ বছরের গৃহকর্মী আসমাকে নির্যাতনের ঘটনায় তাহের-শাহজাদি শিল্পপতি দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) উত্তরা (পশ্চিম) থানায় নির্যাতিতা গৃহকর্মী আসমার মা জোসনা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

নির্যাতিতা আসমা শ্রীপুর উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের ইমান আলীর মেয়ে।

অভিযুক্ত দম্পতি ঢাকার উত্তরার ৩নং সেক্টরের শিল্পপতি মো. তাহের ও তার স্ত্রী শাহজাদী। মো. তাহের গাজীপুরের শ্রীপুরের ফারসিং নিট কম্পোজিটর লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী।

জানা যায়, উত্তরার ৩নং সেক্টরের  আবু তাহের ও শাহজাদী দম্পতি প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজে নেন আসমাকে। কথা দিয়েছিলেন কিশোরী আসমাকে মেয়ের মতো করে রাখবেন। সে কথা তারা রাখেননি। শারীরিক ও মানসিক আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করেছেন কিশোরী আসমার শরীরটাকে ।

নির্যাতিতা কিশোরী আসমা জানায়, কাজের শুরুর দিন গুলো থেকেই তাকে সারা দিন-রাত কাজ করতে হতো। ঘুমানোর ফুরসত পর্যন্ত মিলতো না সেই সাথে কাজের চাপে ক্লান্ত হয়ে পড়লেই মিলতো নির্যাতন। কখনও রাত-দিন মিলিয়ে ১ ঘণ্টা ঘুমানোর সময় পর্যন্ত জন্য দিত না তাহের-শাহজাদি দম্পতি। বাড়ির মালিক আবু তাহের মাঝে মধ্যেই কিল ঘুষি দিয়ে নির্যাতন করতেন, আবার কয়েকবার সিগারেটের আগুনের ছেকাও দিয়েছেন কিশোরীর গায়ে। মালিকের স্ত্রী শাহজাদী শরীরে দিতেন গরম তেলের ছিটা। তারপর দগ্ধ ঘাঁয়ের উপর মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দিতেন। এমন ভাবে দীর্ঘ চার মাস ধরে এই কিশোরীর উপর চলে অমানবিক নির্যাতন। মাঝে মধ্যে নির্যাতন এমন ভাবে চলতো যে, তার চেতনা পর্যন্ত থাকতো না। এমন নির্যাতনের কারণে কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাড়ির মালিক আবু তাহের গাড়ীর চালকের মাধ্যমে কিশোরী আসমার হাতে ৫শত টাকা দিয়ে গত ২৯ জুন বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

কিশোরীর মা জোৎসনার জানান, দারিদ্র্যতার কারণে দুমুঠো ভাত দিতে পারতাম না, লেখাপড়াও করাতে পারছিলাম না। এমন অবস্থায় মালিকের বাসায় কাজে দিয়েছিলাম, আশা ছিল অন্তত পক্ষে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকবে। কিন্তু এখন আমার মেয়েকেই যে নির্যাতন করে প্রায় শেষ করে দিয়েছে। গত ১ বৎসরে তার মেয়েকে দেখতে দেয়নি তারা। মুঠোফোনেও বাড়িতে যোগাযোগ করতে দেয়নি। গরীব মানুষ বলে কি আমাদের জীবনের দাম নেই। এমন অবস্থায় তার মেয়ের উপর নির্যাতনকারীদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা প্রথমে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করতে যান। কিন্তু ঘটনাটি ঢাকার উত্তরায় হওয়ায় তাদেরকে সেখানে গিয়ে অভিযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বুধবার রাতে উত্তরা (পশ্চিম) থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শেষে শুক্রবার অভিযোগটি মামলা হিসাবে গৃহীত হয়।

এদিকে অভিযুক্ত শিল্পপতি তাহের নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেন।

ঢাকার উত্তরা (পশ্চিম) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) তপন চন্দ্র সাহা  জানান, নির্যাতনের  ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে ।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, একজন মানুষকে দিয়ে কাজ করাতেই পারে, কিন্তু কাজের মানুষকে শারীরিক নির্যাতন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিশোরী নির্যাতনের বিষয়টি অবশ্যই শাস্তি যোগ্য অপরাধ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY