Deshantor tv

ঘরের পেছনে ৬ ফুট মাটির নিচে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর লাশ

নিখোঁজের ৩ দিন পর কুলাউড়া উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী আবদুল মনাফের (৩২) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হত্যাকারীর বাড়ির পাশের গর্ত থেকে তার উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারীর বাড়ির পাশে প্রায় ৬ ফুট মাটির নিচে পুতে রাখে।

নিহত মনাফ উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে।

জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর শনিবার রাত ৯টায় আবদুল মনাফ নামের ওই ব্যবসায়ী শহরের মিলিপ্লাজার মনাফ টেলিকম সেন্টার নামক দোকানটি বন্ধ করে গ্রামের বাড়ি মীরশংরের উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিকশাযোগে চলে যান। কিন্তু সিএনজি অটোরিকশা থেকে নেমে নিজ বাড়ির সামনে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। ঘটনার পরদিন ১৩ ডিসেম্বর তার বড় ভাই আজির উদ্দিন বাদী হয়ে কুলাউড়া থানা সাধারণ ডায়েরি করেন।

সাধারণ ডায়েরির পর পুলিশ সোর্সের দেয়া তথ্য মতে হত্যাকারী শাহিনুর রহমান শাহিদকে আটক করে পুলিশ। শাহিনুর রহমান শাহিদের দেয়া তথ্য মতে, মঙ্গলবার তার বসত ঘরের পেছনের একটি গভীর গর্ত থেকে মনাফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ভূকশিমইল ইউনিয়নের মীরশংকর গ্রামের মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে শাহিনুর রহমান শাহিদ (৪০), আতিকুর রহমান চান মিয়া (৫০), মো. ফজলু মিয়া (৪৫), মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে সামছুদ্দিন (৪২), ফজলু মিয়ার ছেলে ফয়েজ আহমদ (২২), মুত চুনু মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আসামি শাহিদের ঘরের পেছনের বাথরুমের সেফটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মনাফের ব্যবহৃত ম্যানিব্যাগ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি মোবাইল সিমের ফ্রেম ও একটি সিমের ছিঁড়া প্যাকেট পায় পুলিশ।
তখন সন্দেহজনকভাবে শাহিদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনা স্বীকার করে।

ঘাতক শাহিদ জানায়, কুলাউড়া হতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে স্থানীয় ঘাটের বাজার সংলগ্ন কালাচান্দের পুলে নেমে বাড়িতে আসার পথে রাত ১০টায় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আবদুল মনাফের ওপর হামলা চালানো হয়।
তিনি ও তার অপর সহযোগী মিলে লোহার পাইপ ও লাঠি দিয়ে পেটায়। মনাফের মাথায় আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। হত্যার বিষয়টি গোপন করতে লাশটি ধরাধরি করে শাহিদের বসত ঘরের পেছনে একটি গর্তের ভেতর রেখে উপরে প্রায় ৬ ফুট মাটি চাপা দেয় তারা। এরপর সেখানে খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রাখে।

লাশ উদ্ধারকালে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওসার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায়, পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসামীর শাহিনুর রহমান শাহিদের সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে নিহত মনাফের পরিবারের। কিন্তু মনাফ অত্যন্ত নিরীহ ও শান্ত প্রকৃতির।

এ ঘটনায় আবদুল মনাফের বড় ভাই আজির উদ্দিন বাদী হয়ে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় জানান, আবদুল মনাফের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *