ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের চুক্তিকে ‘বড় ভুল’ বলছে ইরান

31

মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্কে ফিরতে মুসলিম রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বাক্ষরিত চুক্তিকে একটি বড় ভুল হিসেবে দেখছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এসব কথে বলেছেন। তার মতে, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘বড় ভুল’ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমিরাত-ইসরায়েল চুক্তির ঘোষণা আসার পরপরই ইরান এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। শনিবারের ভাষণে রুহানিও ফিলিস্তিন বিষয়ে তেহরানের আগের অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করেন। ইসরায়েলকে ‘এ অঞ্চলে পা রাখার সুযোগ’ করে দেওয়ার ব্যাপারে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্কও করেছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

আরও পড়ুন : সামরিক শক্তিতে ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে পারবে তুরস্ক?

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতার ঘোষণার পর ইসরায়েল ও আরবের মধ্যে এটি তৃতীয় চুক্তি। এর আগে মিশর ১৯৭৯ সালে ও জর্ডান ১৯৯৪ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় কোনো আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যদিও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় ইসরায়েলের সঙ্গে এসব দেশের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল ও আমিরাতের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও দূতাবাস স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষর ইস্যুতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, তাদের আশা এই বিরাট ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির অগ্রগতিকে এগিয়ে নেবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY